সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

 ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত টানা ৩৩ দিনে গড়িয়েছে, যার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The Independent-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে Bangladesh। এমনকি দেশটি বিশ্বের প্রথম ‘তেল-শূন্য’ দেশে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

আমদানি নির্ভরতায় বাড়ছে চাপ

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশে জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে বৈশ্বিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি খাতে।

ইতোমধ্যে রাজধানী Dhakaসহ বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকটের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় পরিবহন চালকরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন, আবার অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন।

দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব

জ্বালানি সংকটের কারণে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে এসেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে।

সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি রেশনিং চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা এবং প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে।

যদিও সরকারিভাবে কোনো সংকট নেই বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সীমিত মজুত নিয়ে উদ্বেগ

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের একমাত্র শোধনাগার Eastern Refinery Limited-এ অপরিশোধিত তেলের মজুত খুবই সীমিত, যা প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

এছাড়া ডিজেল ও অকটেনের মজুতও দ্রুত কমে আসছে। মার্চের শুরুতে ডিজেলের মজুত ছিল মাত্র ৯ দিনের মতো।

বিকল্প উৎসের খোঁজ

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে Singapore, Malaysia, NigeriaAzerbaijanসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি Russia থেকে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে।

Post a Comment

0 Comments