সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

গোপালগঞ্জে ধর্ষণের শিকার মাদরাসা ছাত্রীর আত্মহত্যা, ২ শিক্ষক গ্রেপ্তার


 গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে রুপা আক্তার (১৪) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও তার ভিডিও ধারণের পর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মাদরাসার দুই শিক্ষক-শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত রুপা আক্তার মুকসুদপুর উপজেলার বামনডাঙ্গা আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার পঞ্চম জামাতের শিক্ষার্থী এবং বামনডাঙ্গা গ্রামের প্রবাসী কামরুল শেখের মেয়ে।

যা ঘটেছিল:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে ওই মাদরাসা ছাত্রী।

  • ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: এর আগে, গত ২৬ নভেম্বর মাদরাসা ছুটির পর শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদার (৫১) জোরপূর্বক রুপা আক্তারকে ধর্ষণ করেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় মাদরাসার অপর শিক্ষিকা খাদিজা বেগম (৩০) ধর্ষণের পুরো দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে রাখেন।

  • আত্মহত্যার প্ররোচনা: নিহতের পরিবার জানায়, ধর্ষণের পর রুপা মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু, ভিডিও ধারণের পর শিক্ষিকা খাদিজা বেগম ছাত্রদের পাঠিয়ে এবং ফোন করে রুপাকে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। লোকলজ্জা ও মানসিক চাপের কারণে রুপা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

নিহতের বড় বোন সাদিয়া আক্তার বলেন, "শিক্ষিকা খাদিজা বেগম আমার বোনকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে রাখে। এরপর সে ওই শিক্ষককে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতো। এসব কারণেই আমার বোন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আমি জড়িতদের ফাঁসি চাই।"

ক্ষোভ ও গণধোলাই:

ধর্ষণের পর শিক্ষার্থীটির আত্মহত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদারকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। শুক্রবার তাকে মুকসুদপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।

মামলা ও গ্রেপ্তার:

শুক্রবার সকালে নিহত রুপার মা বেবী বেগম বাদী হয়ে শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদার ও শিক্ষিকা খাদিজা বেগমকে আসামি করে মুকসুদপুর থানায় ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরই পুলিশ শিক্ষিকা খাদিজা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। চিকিৎসাধীন শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদারকেও শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আসামি মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদার বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের এবং শিক্ষিকা খাদিজা বেগম মুকসুদপুর উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments