বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনা এখন পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে। এতে নাগরিকদের ভূমি সংক্রান্ত কাজ আরও সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে। তবে ডিজিটাল সিস্টেম চালুর পর কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ জমির ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে ৬ ধরনের জমি কোনোভাবেই বিক্রি করা যাবে না, এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিষিদ্ধ ৬ ধরনের জমি
১. এজমালি বা অবিভক্ত জমি
একাধিক ওয়ারিশের মালিকানাধীন জমি এককভাবে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। সকল মালিকের সম্মতি ছাড়া বিক্রি করা যাবে না। তবে বাটোয়ারা দলিল থাকলে নিজের ভাগ বিক্রি করা সম্ভব।
২. জাল রেকর্ডভিত্তিক মালিকানা
জাল রেকর্ডের মাধ্যমে মালিকানা অর্জিত জমি বিক্রি করা নিষিদ্ধ। সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এসব রেকর্ড শনাক্ত করলে রেজিস্ট্রি বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
৩. জাল নামজারি করা জমি
ভুয়া নামজারি বা কাগজপত্র দিয়ে মালিকানা দাবি করা জমি ডিজিটাল সিস্টেমে অবরুদ্ধ রাখা হবে, ফলে বিক্রি করা যাবে না।
৪. ভুয়া দাখিলাভিত্তিক মালিকানা
জাল দাখিলা ব্যবহার করে দখল করা জমি বিক্রির চেষ্টা করলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫. জবরদখলকৃত জমি
জোরপূর্বক দখল করা বা দখল করে রাখা জমি বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
৬. খাস জমি
সরকারি খাস জমি, যার ওপর ৯৯ বছরের বন্দোবস্ত দেওয়া হলেও—তা বিক্রি করা যাবে না। বিক্রির চেষ্টা করলে ক্রেতা–বিক্রেতা দুজনই অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্য
ভূমি সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সব তথ্য এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থাকায় জালিয়াতি বা ভুয়া মালিকানা লুকানোর সুযোগ প্রায় নেই।
সতর্কতা
জমি কেনার আগে অবশ্যই মালিকানা যাচাই করতে হবে। ভুল তথ্য বা জালিয়াতির কারণে যে কেউ প্রতারণার শিকার হতে পারেন।

0 Comments