লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন ইউনিফিলের (UNIFIL) নিকটবর্তী এলাকায় ফের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে কড়া সতর্কতা জানিয়েছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক ব্রিফিংয়ে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ লেবাননের ইউনিফিলের আওতাভুক্ত অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর বেশ কয়েকটি বিমান হামলা পর্যবেক্ষণ করেছে শান্তিরক্ষীরা।
ডুজারিক বলেন, লেবাননের সেনাবাহিনী যখন দক্ষিণে অননুমোদিত অস্ত্র ও স্থাপনা অপসারণে অভিযান চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময় ইসরাইলের এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, “ইসরাইলের এই পদক্ষেপ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
জাতিসংঘ ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে বিদ্যমান সমন্বয় ব্যবস্থা ব্যবহার করে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউএন শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাও অগ্রহণযোগ্য
ডুজারিক জানান, বৃহস্পতিবার বিনত জবেইল এলাকায় টহলরত ইউনিফিল সদস্যদের গাড়ির পেছনে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তি।
তিনি বলেন, “শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং ১৭০১ প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন।”
জাতিসংঘ লেবানন কর্তৃপক্ষকে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে।
একাধিক শহরে ইসরাইলি হামলা
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দক্ষিণ লেবাননের অন্তত তিনটি শহরে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল।
ক্ষয়ক্ষতি হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিবিসির তথ্যমতে, লেবানন–ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক দশকের প্রথম সরাসরি বৈঠকের ঘণ্টাখানেক পরই শুরু হয় এই হামলা।
লক্ষ্যবস্তুতে থাকা অঞ্চলগুলো—
-
মাহরুনা (কৃষিভিত্তিক গ্রাম)
-
আল-মাজাদেল (লিতানি নদীর দক্ষিণে)
-
জেবা (নাবাতিয়েহ এলাকা)
-
বারাচিত (নাবাতিয়ে–বিনত জবেইল এলাকার পাহাড়ি শহর)
হামলায় নিহত ৩০০ জনের বেশি
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই লেবাননে বিমান হামলা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এসব হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কমপক্ষে ১২৭ জনই বেসামরিক নাগরিক।
তীব্র উত্তেজনার মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।

0 Comments